বাত হলে কি খেতে পারেন?
বাত একটি সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা জয়েন্টে ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং শক্ত হয়ে যাওয়া। উপসর্গ উপশম এবং জীবনের মান উন্নত করার জন্য একটি সঠিক খাদ্য অপরিহার্য। নিম্নে বাত রোগের ডায়েট সম্পর্কিত বিষয় এবং পরামর্শ রয়েছে যা রোগীদের বৈজ্ঞানিকভাবে খাবার বেছে নিতে সাহায্য করার জন্য সম্প্রতি ইন্টারনেটে আলোচিত হয়েছে।
1. বাত রোগের জন্য খাদ্যতালিকাগত নীতি

বাতজনিত রোগীদের ডায়েটে প্রদাহ বিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফোকাস করা উচিত। এখানে কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে:
1. ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান, যেমন গভীর সমুদ্রের মাছ, শণের বীজ ইত্যাদি।
2. তাজা শাক-সবজি এবং ফলমূল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ান এবং ভিটামিন ও মিনারেলের পরিপূরক করুন।
3. প্রদাহ কমাতে উচ্চ-চিনি, উচ্চ চর্বি এবং উচ্চ-লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
4. উপযুক্ত পরিমাণে উচ্চ-মানের প্রোটিন, যেমন মটরশুটি, চর্বিহীন মাংস ইত্যাদির যোগান দিন।
2. প্রস্তাবিত খাদ্য তালিকা
| খাদ্য বিভাগ | প্রস্তাবিত খাবার | কার্যকারিতা |
|---|---|---|
| সবজি | পালং শাক, ব্রকলি, গাজর | অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, প্রদাহ কমায় |
| ফল | ব্লুবেরি, চেরি, আপেল | প্রদাহ বিরোধী, ভিটামিন সি সম্পূরক |
| প্রোটিন | সালমন, মুরগির স্তন, টোফু | জয়েন্টের ক্ষতি কমাতে উচ্চ-মানের প্রোটিন সরবরাহ করুন |
| সিরিয়াল | ওটস, ব্রাউন রাইস, পুরো গমের রুটি | ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ, রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল করে |
| বাদাম | আখরোট, বাদাম | ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ, প্রদাহরোধী |
3. খাবার এড়াতে হবে
| খাদ্য বিভাগ | প্রস্তাবিত খাবার নয় | কারণ |
|---|---|---|
| উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার | কেক, ক্যান্ডি, চিনিযুক্ত পানীয় | প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া বাড়ান |
| উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার | ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস | জয়েন্টগুলোতে বোঝা বাড়ান |
| উচ্চ লবণযুক্ত খাবার | আচারযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার | শোথ সৃষ্টি করে এবং ব্যথা আরও খারাপ করে |
| অ্যালকোহল | বিয়ার, মদ | প্রদাহ প্ররোচিত করে এবং ওষুধের প্রভাবকে প্রভাবিত করে |
4. সাম্প্রতিক আলোচিত বিষয়
1.রিউম্যাটিজমের উপর ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যের প্রভাব: সাম্প্রতিক গবেষণা দেখায় যে একটি ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্য (অলিভ অয়েল, মাছ এবং শাকসবজি সমৃদ্ধ) বাত রোগের লক্ষণগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে৷
2.প্রোবায়োটিকস এবং রিউম্যাটিজম: অন্ত্রের স্বাস্থ্য বাত রোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, এবং প্রোবায়োটিকের পরিপূরক এই অবস্থার উন্নতি করতে পারে।
3.ভিটামিন ডি এর গুরুত্ব: ভিটামিন ডি এর অভাবে বাত বাড়তে পারে। সূর্যের মাঝারি এক্সপোজার বা ভিটামিন ডি সম্পূরক উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
5. ডায়েট টিপস
1. ঘন ঘন ছোট খাবার খান এবং অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
2. বিপাক উন্নীত করতে আরও জল পান করুন।
3. রান্নার প্রধান পদ্ধতি হল স্টিমিং, সিদ্ধ করা এবং স্টুইং করা এবং ভাজা কমানো।
4. আপনার নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনার খাদ্য সামঞ্জস্য করুন এবং প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করুন।
বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকাগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে, বাতজনিত রোগীরা কার্যকরভাবে উপসর্গগুলি উপশম করতে পারে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। আমি আশা করি এই নিবন্ধে দেওয়া পরামর্শ আপনাকে সাহায্য করবে!
বিশদ পরীক্ষা করুন
বিশদ পরীক্ষা করুন